ডেক্সরিপোর্ট: কালবৈশাখীর আঘাতে রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড় এলাকায় ঝড়ে ভবনের ইট পড়ে ও সংসদ ভবন এলাকায় গাছ চাপা পড়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন পুরুষ ও অপর জন নারী।
ঘণ্টায় ৭৪ কিলোমিটার বেগে আসা কালবৈশাখীর স্থায়িত্ব ছিল এক মিনিটের বেশি। তবে ঘণ্টাখানেক ধরে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেছে।
রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুরানা পল্টন মোড় মল্লিক কমপ্লেক্সের নিচে ভবনের ইট ধসে এক চা দোকানী মারা যান।
নিহত হানিফ (৫০) বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ থানা উলানিয়া গ্রামের মৃত আবদুল লতিফের ছেলে। বর্তমানে ১০৮ দক্ষিণ মুগদা পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশ জানায়, ঝড়ের সময় ওই ভবনটির ইট ধসে পড়ে চা দোকানী আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পল্টন থানার এসআই সুজন কুমার তালুকদার জানান, ঝড়ের সময় ওপর থেকে শরীরে ইট ধসে পড়ে তিনি মারা গেছেন। বর্তমানে লাশ ঢামেক মর্গে রয়েছেন।
এদিকে মণিপুরিপাড়া এলাকায় মিলি ডি কস্তা নামের একজন মারা গেছেন। তিনি উপড়ে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়েন।
ঝড়ে অনেক স্থানে গাছপালা ভেঙে গেছে, বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অনেক স্থানে শিলাবৃষ্টিও পড়েছে।
প্রচণ্ড বাতাসে রাজধানীসহ দেশের অনেক স্থানে বহুতল ভবন কেঁপে ওঠে। রাজধানীর হাতিরঝিল, কামরাঙ্গীরচরের সোনামুড়া ঘাট, সোনারগাঁও এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়াও রাস্তায় থাকা বিভিন্ন যানবাহন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।
হঠাৎ ঝড়ে রমনা পার্কের সামনে গাছ ভেঙে সিএনজি ও প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানা গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার ও মঙ্গলবার কালবৈশাখীর সঙ্গে দেশের অনেক এলাকায় দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ স্থানের দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা আছে।
রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ স্থানে ও অন্যান্য বিভাগের কিছু কিছু স্থানে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় দেশের সব কটি নদীবন্দরকে ২ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।